হৃদয় আলম

অনুষ্ঠান চলছে। শীতল হাওয়া বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছে এটা পৌষ মাস। তা যাই হোক হাজার লোকের সমাগমে এ হাওয়া খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি।

মাঠে সারি-সারি চেয়ার পাতা। সবাই মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করছে সংস্কৃতি অনুষ্ঠান। কিন্তু একটা লোক কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করছে তিতুমীরের নবীন-প্রবীণদের মিলনমেলা।

কৌতূহলী দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ যাচাই-বাছাইয়ের পর এগিয়ে গেলাম তার কাছে। জানতে চাইলাম এই চঞ্চল দিনে ‘নিরবতার’ কেন।

একটু মুচকি হেসে জানালেন তিনি তিতুমীর কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। নাম আরমান। ৯৮’র ব্যাচের তার কিছু বন্ধু এখানে এসেছেন, তাদের সাথে দেখা করতেই তিনি এসেছেন। আর পুরোনো দিনের সেই চিরচেনা ক্যাম্পাসের টানে শত প্রতিকূলতাও বাঁধা হয়ে থাকতে পারেনি।

নিজের দুর্ভাগ্যের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, বছর তিনেক আগে ব্রেণস্ট্রোক করে তার ডান পাশ অপস হয়ে গেছে। এখন তিনি চাইলেও তার ডান হাত ও পা নড়াচড়া করতে পারেন না। খুবই কষ্ট হয় চলাচলে। কিন্তু তারপরেও ভালোবাসার টানে ছুটে এসেছেন প্রাণের ক্যাম্পাসে।

নিজের অনুভূতির কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরমান বলেন, ‘কতো স্মৃতি রয়েছে এই ক্যাম্পাসে। কতো দৌড়েছি, কতো খেলেছি- এই মাঠে। দুর্ভাগ্য, আজ ছুটবার ক্ষমতা নেই। কিন্তু তারপরেও অনেক ভালো লাগছে। নবীনদের কল-কলানীতে ফিরে গিয়েছিলাম অনেক দিন আগের কোন এক দিনে, কিছুক্ষণের জন্য মনে হচ্ছিল, সেই দিনগুলো আবার যদি ফিরে আসত!’

প্রসঙ্গত, রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের ৫১ বছর পূর্তিতে গত শনিবার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবীণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নবীনদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ঢাকা ১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান (নায়ক ফারুক), তিতুমীর কলেজ সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন আহমেদ,বীর প্রতীক মোজাম্মেল আনোয়ার, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব শাহনেওয়াজ প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন