জানুয়ারীর ১ তারিখে ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আশরাফ হোসেন।

উক্ত শুভেচ্ছা সাক্ষাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রিপন মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোড়ল, তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শামিম হাসান শিশির এবং সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাবের সভাপতি মাহাবুব হাসান রিপন সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এসময় ছাত্র প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য অধ্যক্ষ বলেন, নতুন বছর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য নানাবিধ সুখবর নিয়ে আসছে। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তবে সেই সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেও আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেমন আমরা বলি যে গুণগত শিক্ষা আসল উদ্দেশ্য। তবে দেশের বৃহত্তম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়ন করে। তবে সেই অনুযায়ী যে পরিমান অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ও ক্লাসরুম প্রয়োজন তা পর্যাপ্ত আমাদের নেই। আর এর ভিতরে পরীক্ষা তো প্রতিনিয়ত আছেই। পরীক্ষার সময় গুলোতে আমরা ঠিকমতো ক্লাস নিতে পারি না। এটা আমাদের অনেক বড় একটা সমস্যা।

আর দ্বিতীয়ত, আমাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাব। এখন আমাদের নির্মাণাধীন দশতলা দুইটি একাডেমিক ভবন এর কাজ খুব দ্রুত শেষ হবে। যার ফলে এই ক্লাসরুম সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। আর শিক্ষক এর ব্যাপারে বলব তিতুমীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হওয়ার পরে আমাদের এখানে তারা প্রতি বিভাগে একজন করে শিক্ষক দেওয়ার কথা বলেছিল। বর্তমানে আমাদের কলেজে ২২টি ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। এর ভেতরে কোন ডিপার্টমেন্টে চারজন পাঁচজন এবং উর্ধ্বে গেলে ১২ জন। তবে শিক্ষক সংকট দূর করার জন্য বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় সাড়ে ১২ হাজার পোস্ট দিছে পোস্ট রিজন সাড়ে ১২ হাজার পথ তৈরীর কাজ চলছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর প্রচেষ্টায় এ কাজ অনেক দ্রুত চলছে। আর এর বাস্তবায়ন হলে শিক্ষক সংকট দূর হবে বলে আশা করি।

ভবন গুলোর কাজের উন্নতি এবং কবে নাগাদ শেষ হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, ভবন গুলোর কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে এবং কখন থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারবে তা নির্দিষ্ট ভাবে বলা যাচ্ছে না তবে আমাদের কাজ চলছে এবং আশা করি বছরখানেকের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা ভবনগুলোতে ক্লাস করতে পারবে।

২০১৯ সালে আমাদের কলেজের সব থেকে বড় প্রাপ্তিটা কি? আর আপনি কোনটাকে সব থেকে বেশি প্রাধান্য দিবেন? -এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৭ কলেজের মধ্যে আমাদের ১০ তলা ভবন আমাদের জন্য অনেক বড় কিছু। ২ নম্বরে বলতে গেলে বিজ্ঞান ভবনে ক্লাস করতে গেলে পানি পড়তো এছাড়াও বিজ্ঞান ভবনে নাজুক অবস্থা ছিল এখন আর নেই। গত ৫-৬ মাস আগে আমাদের মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী এখানে এসেছিলেন। এই ভবনটি দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এর সংস্কারের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কে নির্দেশ দেন এবং তিনি অনেক দ্রুততার সাথে সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেন। যেটা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আগামীতে ৫ মাসের মধ্যে মাস্টার ভবনের সংস্কার কাজ চলবে।

পরিবহন সংকট নিরসনের ব্যাপারে অধ্যক্ষ বলেন, আমরা আমাদের পরিবারে ইতমধ্যেই একটি নতুন বাস সংযোজন করতে পেরেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একটা বাস আমরা পেয়েছি। তবে পাওয়ার ভাগ্য প্রসন্ন থাকলে নতুন বছরে আরো দুই একটা বাস পেতে পারি। আমরা কিছুদিন আগে মাননীয় সচিবের সাথে দেখা করেছি নতুন বাস কেনার জন্য। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে আমরা বাস কেনার জন্য আবেদন করেছি। আশা করি এবছরে তা পাবো।

এছাড়াও তিনি বলেন, আমরা মাননীয় সচিবের কাছে বিভিন্ন আবদার করেছিলাম। তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং তার নির্দেশ অনুযায়ী কলেজের বিভিন্ন কাজ অনেক দ্রুত শুরু হবে। অলরেডি অডিটোরিয়াম সংস্কার এবং সেন্ট্রাল এসির কাজ শুরু হয়ে গেছে। এছাড়াও আমাদের পরিকল্পনা আছে আমরা কোন একজন মন্ত্রীকে দিয়ে আমাদের কলেজের যে ব্রেস্টফিডিং রুমটা নির্মাণ করা হয়েছে সেটির উদ্বোধন করাবো। শিক্ষা মন্ত্রী কিংবা সমাজকল্যাণমন্ত্রী দিয়ে উদ্বোধন করানোর পরিকল্পনা আছে। মোটামুটি মাসখানেক এরমধ্যে এটা শেষ করবো।

নতুন বছরে মাননীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম গত সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বলে গেছেন তিতুমীর কলেজ সংস্করণে কলেজ প্রশাসন উদ্যোগ নিলে মাননীয় সরকার সহায়তা করবে। আমরা তার সাথে বসবো এবং আশা করি ইতিবাচক ফল পাব। আমরা সেই আশাতেই বুক বেঁধে আছি।

অন্যদিকে কলেজের সামাজিক সংগঠন গুলো নিয়ে বলেন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত তাদের সাথে কথা বলেছি। শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম গুলো জোরদার করা বিশেষ ভাবে দরকার। জঙ্গিবাদ এবং মাদক এগুলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের মুক্ত রাখতে হলে সহশিক্ষা কার্যক্রম এর কোন বিকল্প নেই। এগুলো খারাপ জিনিস থেকে দূরে রাখে। চেষ্টা করেছি কলেজে শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা এবং এগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন হওয়ার একটা সময় সামাজিক সংগঠনগুলো ছিলই না। যেমন বলতে গেলে আমাদের যেমন সাংবাদিক সমিতি ডিবেট ক্লাব, শুদ্ধস্বর কবিতা মঞ্চ, বিএনসিসি, স্কাউট পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন তৈরি হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের বিকশিত করবে বলে মনে করি।

সবশেষে তিনি নতুন বছরে সবার জীবনের মঙ্গল কামনা করেন এবং নতুন বছর আমাদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন।

আপনার মতামত লিখুন