এক নতুন ধরনের হোয়াটস্যাপ-ব্যাক স্টোরি থেকে জানা গেছে যে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যে সমস্ত ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে পড়ে সেগুলি অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তির দ্বারা নয়। বরং তা ছড়াছে মূলত কুসংস্কার মুক্ত এবং উন্নত চিন্তাধারার মানুষজনের দ্বারাই।

লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের একদল গবেষক কোম্পানির ৫০ হাজার ডলারের সাহায্যে ২০টা দল নির্বাচন করেন। তাঁদের রিপোর্ট, ‘হোয়াটসঅ্যাপ ভিজিল্যান্টেস? হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেস অ্যান্ড মব ভায়োলেন্স ইন ইন্ডিয়া’ নামক এক গবেষণাপত্র জানা যায় যে কীভাবে এই ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং তা রোখার জন্য কী করা উচিত। ভারতে ফেসবুক অধিকৃত হোয়াটসঅ্যাপ হল সবথেকে জনপ্রিয় সোশ্যাল সাইট যেটি প্রায় ৪০০ মিলিয়নেরও বেশি লোক ব্যবহার করেন। এই অ্যাপটির পারতপক্ষে নিরীহ মেসেজ বক্সটিই হল ভুয়া খবর এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর মূল হাতিয়ার। সে কোনো রাজনৈতিক দলের অসন্তোষ থেকে শুরু করে সাম্প্রদায়িক প্রচারণাই হোক না কেন!

মিথ্যা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জন্য বহু ভারতীয় শিশু অপহরণের মতো ভুল অপবাদে অন্যায়ভাবে শাস্তি পায়, যার জন্য সংস্থাটি মেসেজ ফরোয়ার্ডের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করেছে। কিন্তু তারপরই, একটি প্রতিবেদন এটি প্রকাশ করে যে এই বিধিনিষেধ মাত্র ১০০০ টাকার একটি সফটওয়্যারের সাহায্যেই লঙ্ঘন করা সম্ভব। আর যদি সেটি খুব কঠিন হয় তাহলেও আরও বিভিন্ন সংস্থা হোয়াটসঅ্যাপের মাস-মেসেজিংকেই প্রচারণাকে স্বয়ংক্রিয় এবং নিয়মের বিধি নিষেধকে পাত্তা না দিয়েই উপযোগী করে তুলতে সক্ষম।

গবেষকরা ভারতের বিভিন্ন জায়গার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী বিভিন্ন মানুষজনের পাঠানো মেসেজগুলি বিশ্লেষণ করে দেখেন কীভাবে এই ভুল খবরগুলি ছড়িয়ে পড়ে। মূল গবেষকদের মতে হোয়াটসঅ্যাপের সুরক্ষা একটি গভীর সমস্যা এবং তাঁরা সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছেন কীভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রক্রিয়াটি বন্ধ করা যায়। তাঁরা আরও বলেছেন যে, এটি একটি দীর্ঘ সময়ব্যাপী পদ্ধতি এবং তাঁদের গবেষণা ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষামূলক বিষয়ের দ্বারা জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।

আপনার মতামত লিখুন